Thursday, 14 November 2024

চিকিৎসক না থাকায় নার্স ও আয়ার হাতে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টায়, নবজাতকের মৃত্যু

                      শুধু দেশ  জনগণের পক্ষে

চিকিৎসক না থাকায় নার্স ও আয়ার হাতে  স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টায়, নবজাতকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

জামালপুরের বেসরকারি নকিব উদ্দিন হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করতে গিয়ে এক নবজাতক মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে বুধবার বিকাল ৪টার দিকে।

নবজাতকের স্বজনরা জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জামালপুর পৌরসভার তেতুলিয়া এলাকার বাসিন্দা মারুফ হোসেনের স্ত্রী রূম্পা মনি মিম প্রসব বেদনা নিয়ে নকিব উদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই সময় হাসপাতালে কোনো গাইনী চিকিৎসক উপস্থিত না থাকায় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামসুজ্জামান সেলিম নার্স ও আয়া দ্বারা নবজাতকের স্বাভাবিক প্রসবের জন্য দুপুর ১২টার দিকে অপারেশন থিয়েটার কক্ষে নিয়ে যান। প্রায় ৪ ঘণ্টা অপারেশন থিয়েটারে থাকা অবস্থায় নবজাতককে টেনে-হিঁচড়ে বের করার সময় শিশুটির মাথায় আঘাত লাগে, ফলে সদ্যোজাত শিশুটি মৃত্যুবরণ করে।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামসুজ্জামান সেলিম বলেন, আমরা বারবার বলেছি সিজারিয়ান পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত, তবে তারা স্বাভাবিক ডেলিভারি করতে চেয়েছিল।

এ বিষয়ে জামালপুর থানার ওসি তদন্ত আনিসুর আশেকীন বলেন, নবজাতকের মৃত্যুর খবর শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা খাদ্য কর্মকর্তার তালবাহানা জামালপুরে ২০ টন সরকারি চাল জব্দ

                    শুধু দেশ  জনগণের পক্ষে

জেলা খাদ্য কর্মকর্তার  তালবাহানা জামালপুরে ২০ টন সরকারি চাল জব্দ

 নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

জামালপুরে অভিযান চালিয়ে সরকারি প্রায় ২০ মেট্রিক টন চাল ও চটের খালি বস্তা ৩৬০ পিস  এবং একটি ট্রাক জব্দ করেছে জামালপুর র‍্যাব ১৪ । সোমবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাতটায় র‍্যাবের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোঃ আব্দুর রাজ্জাক এর নেতৃত্বে সদর উপজেলার ৫ নং ইটাইল ইউনিয়নের দমদমা বকুলতলা বাজারের লিংকনের রাইচমিল থেকে ৫০ কেজির ৩৯৮ টি বস্তায় এ চাল উদ্ধার করা হয় । ১৯,৮৪০ কেজি চালের সর্বমোট মূল্য= ৮,৯২,৮০০ (আট লক্ষ বিরানব্বই হাজার আটশত) টাকা। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জিন্নাত শামছুন্নাহার বাদী হয়ে ১৯৭৪ এর ২৫(১) ধারার মোস্তাফিদুল ইসলাম লিংকনসহ আরো ৫/৬ জন অজ্ঞাতনামা করে থানায় মামলা দায়ের করেন। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর)  দুপুর ৩ টায় জামালপুর র‍্যাবের অধিনায়কের পক্ষে সহকারী পুলিশ সুপার ও মিডিয়া অফিসার মোঃ আব্দুল হাই চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সরোজমিন থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জেলার সদর উপজেলার দমদমা বকুলতলার বাজার থেকে বোয়ালমারী গামী কাঁচা রাস্তার পাশে খরখরিয়া এলাকার গেন্দু ইসলামের ছেলে মোস্তাফিদুল ইসলাম লিংকন (৪৫) সহ তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা রাইচ মিলের সামনে রাস্তার উপর একটি ট্রাকে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত চাল সরকারি লোগো সম্বলিত বস্তা থেকে বাহির করে নতুন প্লাষ্টিকের বস্তায় লোড করতেছে । সংবাদ পেয়ে রাত সাড়ে আটটায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা জিনাত শামছুন্নাহার সুলতানা ও  জামালপুর জেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান খানকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান জামালপুর র‍্যাব।সেখানে খাদ্য কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান খান সরাসরি মোস্তাফিদুল ইসলাম লিংকনের পক্ষ পাতিত্ব শুরু করে এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কিছু টাকা জরিমানা করে চাল গুলো ছেড়ে দেওয়ার বিভিন্ন পায়তারা ও প্রস্তাবনা করেন৷ সরকারের চাল নয় বলে তিনি দাবী করলে সাংবাদিক ও স্থানীয়দের নানা প্রশ্নের তোপের মুখে পড়ে যান জেলা খাদ্য কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান খান । পরে রাত ১০ টায় জামালপুর সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ সিহাবুল আরিফ ঘটনাস্থলে গিয়ে লিংকনের রাইচ মিলের ভিতর থেকে সরকারী বরাদ্দের ৩০ কেজি চটের খালি ৩৬০ টি খালি বস্তা উদ্ধার করেন । পরে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ও জেলা খাদ্য কর্মকর্তা চাল গুলো সরকারী বলে সনাক্ত করে।

মঙ্গলবার ভোর রাত ২ টায় র‍্যাব জামালপুর সদর থানায় চাল গুলো হস্তান্তর করে। চাল জব্দ করা হলেও পালিয়ে গেছে কালোবাজারি লিংকন ও তার সহযোগীরা । চাল কালোবাজারী ও তার সহযোগীদের আইনের আওতায় নিয়ে আনার দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।   

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাইচমিলের এক শ্রমিক জানান, আমাদের কাজ গাড়ীতে মাল লোড দেওয়া। ৩০ কেজি বস্তায় চাল আসার পরে আমরা সেটা খুলে নতুন আরেকটি বস্তায় তুলে ফেলি। 

এদিকে সুমন সহ স্থানীয় অনেকেই জানান, তার এ রাইচ মিল থেকে অনেক আগে থেকেই সরকারী বস্তা সহ চাল আসে।  পরে তারা সেগুলো বস্তা পরিবর্তন করে ফেলে। সরকারীর বস্তা এখানে কিভাবে আসল? তার এই কাজে সরকারী কর্মকর্তারা জড়িত রয়েছে কিনা তা তদন্ত করা হলে অনেকেই আইনের আওতায় আসবে ৷ তবে জেলা খাদ্য কর্মকর্তার সাথে সোমবার লিংকনের সাথে অনেকবার যোগাযোগ হয়েছে  বিষয়টি সমাধানের জন্য। একটি রাইচ মিলে এতো বস্তা চাল উদ্ধার হয় এখানে জেলা খাদ্য কর্মকর্তার ভুমিকা রহস্যজনক ছিল।  আমরা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবী জানাই৷  

এ বিষয়ে সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জিন্নাত শামছুন্নাহার জানান, থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে ৷ 

তবে বিষয়টি বিভিন্ন প্রশ্ন করা হলে কোন বক্তব্য দিতে রাজী হয়নি  জামালপুর জেলা খাদ্য কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান খান।  

এদিকে জামালপুর র‍্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার ও মিডিয়া অফিসার আ: হাই চৌধুরী জানান,  পলাতক আসামী মোস্তাফিদুল ইসলাম লিংকনসহ আরো ৫/৬ জন অজ্ঞাতনামা আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে র‌্যাবের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে ।


Friday, 8 November 2024

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অনশন

                    শুধু দেশ  জনগণের পক্ষে

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অনশন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে ১ দিন ধরে অনশন করছেন রোকেয়া জোনাকি (১৭) নামে এক তরুণী।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর ) বিকাল থেকে সরিষাবাড়ী মহাধান ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জিঙ্গারভিটা মিয়া বাড়িতে অনশনে রয়েছেন ওই তরুণী। প্রেমিক মোঃ জুবায়ের ইসলাম জুবরাজ মিয়া বাড়ির আব্দুল লতিফ সরকারের ছেলে। অনশনে থাকা তরুণী রঘুনাথপুর গ্রামের মোঃরফিকুল ইসলাম মেয়ে।

জানা গেছে, জুবায়ের ইসলাম জুবরাজ ও  রোকেয়া জোনাকি দুজনই পাশাপাশি গ্রামে বাসিন্দা। সেই সুবাধে তাদের মধ্যে গত ৪ বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর বিভিন্ন সময়ে ঘুরতে গিয়ে শারিরীক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তারা। বিষয়টি এতদিন গোপন রাখলেও গত ৭ নভেম্বর রোকেয়া জোনাকি জুবায়ের ইসলাম জুবরাজের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে এসে অনশন করেন।

রোকেয়া জোনাকি বলেন, জুবায়ের ইসলাম জুবরাজের সাথে দীর্ঘ ৪ বছর ধরে আমার প্রেমের সম্পর্ক চলছে। সে আমাকে জামালপুর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে নিয়ে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছে এবং আমার নিজ বাড়িতে এসে আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে৷ সর্বশেষ সরিষাবাড়ী ঘুরতে নিয়েও বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ফের আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করেছে। বিষয়টি এতোদিন আমি গোপন রেখেছি, সে আমাকে বিয়ে করবে বলে।

তিনি আরও বলেন, কিন্তু গত ১ মাস থেকে জুবায়ের ইসলাম জুবরাজ আমার সাথে যোগাযোগ করা বন্ধ করে দেয়। আমি লোকমুখে শুনেছি জুবায়ের ইসলাম জুবরাজ আমার মত আরেকটি মেয়ের সাথে সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছে।

জুবায়ের ইসলাম জুবরাজের বাবা আব্দুল লতিফ সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, আমার ছেলে ও এই মেয়ের প্রেমের সম্পর্কের কথা আমাদেরকে এর আগে তারা কেউ বলেনি কিন্তু ১ মাস আগে জোনাকি নামে মেয়েটা আমাদের বাড়িতে আসে তখন আমরা তাদের সম্পর্কের কথা জানতে পারি। আবার আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭ দিকে আমাদের বাড়িতে আসে। আমি এই সম্পর্ক মানতে প্রস্তুত না। 

এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিক জুবায়ের ইসলাম জুবরাজের বড় ভাই এনামুল হক সাগরের কাছ থেকে জুবায়ের ইসলাম জুবরাজের মোবাইল নাম্বার নিয়ে একাধিকবার কল দিলেও তাকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ চাঁদ মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, বিয়ের দাবিতে ১ দিন ধরে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশনের বিষয়টি এখনো কেউ আমাকে জানাননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

চাষাড়ায় গণসনাবেশে জেলা তারেক জিয়া প্রজন্ম দলের শোডাউন

                    শুধু দেশ  জনগণের পক্ষে

চাষাড়ায় গণসনাবেশে জেলা তারেক জিয়া প্রজন্ম দলের শোডাউন

স্টাফ রিপোর্টার লিজাঃ 

ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গণসমাবেশে বিশাল মিছিল নিয়ে যোগদান করছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা তারেক জিয়া প্রজন্ম দলের নেতৃবৃন্দরা। ৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে ৩টায় চাষাড়া জিয়া হলে আয়োজিত সমাবেশ সফল করতে বিশাল শোডাউন দেন তারা। গণসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। তারেক জিয়া প্রজন্ম দলের জেলার সভাপতি নুর মোহাম্মদে নেতৃত্বে মিছিলে আরো উপস্থিত ছিলেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জয়নাল মল্লিক, শাজাহান সাদেক, সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন, আলকাছসহ ফরহাদ, পলাশ, রানা, এসহাক, রিপন, সেলিম, জাকির, সাকিব প্রমুখ।

মিছিলটি নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়ে চাষাড়া জিয়া হলে আয়োজিত সমাবেশে যোগদান করে।

Sunday, 3 November 2024

বিএনপির জনসভায় তারেক জিয়ার প্রজন্ম দল এর মাহমুদুল্লাহ ও আরিয়ান তুষারের নেতৃত্বে বিশাল শোডাউন।

                         শুধু দেশ  জনগণের পক্ষে

বিএনপির জনসভায় তারেক জিয়ার প্রজন্ম দল এর মাহমুদুল্লাহ ও আরিয়ান তুষারের নেতৃত্বে বিশাল  শোডাউন।

স্টাফ রিপোর্টারঃ আলেয়া আক্তার লিজা 

নারায়ণগঞ্জ - জেলা বিএনপি'র সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য,আলহাজ্ব মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের আগমনে ফতুল্লা থানা জাতীয়তাবাদী  তারেক জিয়ার প্রজন্ম দলে এর সভাপতি মাহমুদুল্লাহ সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিয়ান তুষার নেতৃত্বে  হাজার হাজার নেতা কর্মীদের নিয়ে জনসভায় যোগদান করেন।

শনিবার (২নভেম্বর) বিকাল ৩ টায় ফাজিলপুর ঈদগাহ মাঠের সামনে থেকে  বিশাল মিছিলটি নিয়ে বের হয়ে পরে পঞ্চবটির মোড় প্রদক্ষিণ করে এনায়েত নগর ইউনিয়ন ৬ নং ওয়ার্ড চটলার মাঠে এনায়েত নগর ইউনিয়ন বিএনপি'র সমাবেশে যোগদান করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা তারেক জিয়ার প্রজন্ম দলের সভাপতি নূর মোহাম্মদ, সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলামের ছেলে উপদেষ্টা সাইফুল ইসলাম মার্টিন । জেলা যুগ্ম সম্পাদক জয়নাল আবেদীন মল্লিক, সাংগঠনিক সম্পাদক আলকাছ, ফতুল্লা থানা প্রজন্ম দলের সভাপতি মাহমুদুল্লাহ,ফতুল্লা থানা প্রজন্ম দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আরিয়ান তুষার, কাশিপুর প্রজন্ম দলের যুগ্ম আহবায়ক এসহাক , যুগ্ম আহবায়ক রিপন, এনায়েত নগর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী,সহ-সভাপতি পলাশ, যুগ্ম সম্পাদক রানা, ফতুল্লা থানা সহ-সভাপতি কাউসার, ফতুল্লা থানা সাংগঠনিক সম্পাদক অনিক, সদস্য জাকির হোসেন, জেলা সদস্য জাহিদ, জাহাঙ্গীর, আরহিম,সুফিয়ান আবু তাহের, মানিক ,জাকির, সেলিম হোসেন, শফিকুল হাসান প্রমুখ।

জামালপুরে বাংলাদেশ হিন্দু বোদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সমাবেশ ও মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত

                                               শুধু দেশ  জনগণের পক্ষে

জামালপুরে বাংলাদেশ হিন্দু বোদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সমাবেশ ও মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ

জামালপুরে সংখালঘুদের ৮ দফা দাবি বাস্তবায়ন, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার তদন্ত, ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট রাণা দাশগুপ্তসহ বিভিন্ন জেলায় নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সকল অঙ্গসংগঠন ও সংখ্যালঘু ঐক্যমোর্চাভুক্ত সংগঠনের সমন্বয়ে সারাদেশের ন্যায় জামালপুর শহরের সমাবেশ ও মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ উলক্ষে বাংলাদেশ হিন্দু বোদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, সংখ্যালঘু সংগঠন সমুহের ঐক্যমোর্চা শনিবার বিকাল ৩ টায় শহরের দয়াময়ী মোড় প্রঙ্গনে মানব বন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করে। ঘন্টা ব্যাপী মানব বন্ধন ও সমাবেশে বাংলাদেশ হিন্দু বোদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ জামালপুর জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কৃষিবিদ লক্ষী কান্ত পন্ডিত এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ হিন্দু বোদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ জামালপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রমেন বণিক, শ্রী শ্রীরী দয়াময়ী মন্দির পরিচালনা পরিষদেরস ভাপতি সিদ্ধার্থ শংকর রায় ও বাংলাদেশ হিন্দু বোদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ।

জামালপুর শহর শাখার সাধারণ সম্পাদক বিপুল চন্দ্র কাঞ্জিলালসহ আরও অনেকে।সমাবেশ চলাকালে বক্তাগন সংখালঘুদের উপরোক্ত ৮ দফা দাবী মেনে নেওয়ার জন্যস রকারের প্রতি আহ্বান জানান।

জামালপুরে বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির মৃত্যু

                                                শুধু দেশ  জনগণের পক্ষে

জামালপুরে বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির মৃত্যু

নিজের প্রতিবেদকঃ

জামালপুরে এম এ রশিদ  নামে বেসরকারি একটি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় হাসি খাতুন (৩০) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। স্বজনদের অভিযোগ রোগীর মৃত্যুর পরও ১৪ ব্যাগ রক্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জানাযায়, ১ নভেম্বর (শুক্রবার) দুপুরে শরিফপুর ইউনিয়নের শিতলকুসা গ্রামের নূরল মৌল্লিকের স্ত্রী হাসি খাতুন(৩০) তৃতীয় সন্তান প্রসবের জন্য এম এ রশিদ একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। ঐদিন বিকালে এ রশিদ হাসপাতালে ডা. রুমানা আরমান প্রসুতির সার্জারি করেন। সার্জারি করার সময় নাড়ি কেটে ফেলায় অধিক রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগীর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনরা। তবে প্রসুতির মৃত্যু হলেও নবজাতকটি সুস্থ রয়েছে বলে জানাগেছে।

নিহত প্রসুতির মামা রাজু আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, চিকিৎসক রুমানা আরমান আমার ভাগনীর একটি নাড়ি কেটে ফেলেন। এক পর্যায়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের জানায় রোগীর প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে। প্রচুর রক্ত লাগবে। আমরা একে একে ১৪ ব্যাগ রক্ত দিয়েছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। আমার ভাগ্নিকে বাঁচাতে পারেননি তারা। ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় আমার ভাগনীর অকালে মৃত্যু হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।

নিহত প্রসুতির চাচাতো ভাই রোমান বলেন, শুক্রবার দিবাগত রাত ৯টায় রোগী মারা গেছে। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে নানা অযুহাত টালবাহনা করে ১৪ ব্যাগ রক্ত নিয়েছে। রোগীর অবস্থা খারাপ শুনে আমারা উন্নত চিকিৎসার জন্য বারংবার রোগী ফেরত চেয়েছি কিন্তু তারা আমাদের রোগী ছেড়ে দেয়নি।
এ ব্যাপারে প্রসূতির স্বামী নূরল মৌল্লিক বলেন, ডাক্তার আমার স্ত্রীর সিজার অপারেশন করতে গিয়ে নাড়ি কেটে ফেলে আমাকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছে। তাদের ভুল চিকিৎসায় আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আমি আমার স্ত্রী হত্যার বিচার চাই।
এই বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো  প্রকার বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

এ ব্যাপারে জামালপুর সিভিল সার্জন ফজলুর করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এম এ রশিদ হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর ঘটনাটি আমরা শুনেছি, তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।

দেওয়ানগঞ্জে ৫৩ তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

                                               শুধু দেশ  জনগণের পক্ষে

দেওয়ানগঞ্জে ৫৩ তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

দেওয়ানগঞ্জ প্রতিনিধিঃ শরিফ মিয়া 

সমবায়ে গড়ব দেশ বৈষম্যহীন বাংলাদেশ এ প্রতিপাদ্যকে  সামানে রেখে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ৫৩ তম জাতীয় সমবায় দিবস ২০২৪ উদযাপন উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

শনিবার ২ (নভেম্বর) সকালে উপজেলা উপজেলা প্রশাসন ও সমবায় বিভাগের উদ্যোগে  উপজেলা  সহকারি যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নুসরাত জাহানের সঞ্চালনায় ও   উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স। বিশেষ অতিথি হিসাবে  বক্তব্য রাখেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি)  শামসুল জামান আসিফ,বৈষম্য বিরোধী  ছাত্রদের প্রতিনিধি মো.সোহেল রানা, সিনিয়র সাংবাদিক খাদেমুল ইসলাম, সমবায় সমিতির সদস্যবৃন্দসহ অনেকে। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,বৈষম্যবিরোধী ছাত্র প্রতিনিধি,বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা,সাংবাদিকসহ আরো অনেকে।

এ সময় বক্তারা বলেন, সমবায় সমিতির মাধ্যমে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গডতে হবে জানান তারা।

Thursday, 31 October 2024

জামালপুরে যমুনা সার কারখানা থেকে সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ চৌধুরী লুটেছে হাজার হাজার কোটি টাকা ।

                      শুধু দেশ  জনগণের পক্ষে

জামালপুরে যমুনা সার কারখানা থেকে সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ চৌধুরী লুটেছে হাজার হাজার কোটি টাকা ।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানা থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গড়ে উঠে ছিল মাফিয়া সিন্ডিকেট। অভিযোগ উঠেছে গত ১৫ বছরে শুধুমাত্র যমুনা সার কারখানা থেকেই লুটে নিয়েছেন হাজার কোটি টাকা। 

১৯৯০ সালে দেশের এই বৃহত্তম সার কারখানা  প্রতিষ্ঠার পর থেকেই লুটপাটের একটি রাজনৈতিক চক্র গড়ে উঠে। বিভিন্ন ক্যাটাগরীর কাজ নিয়ন্ত্রনের জন্য একাধিক সিন্ডিকেট গড়ে উঠলেও মূল সিন্ডিকেট ছিলো একটি। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের জেলা, উপজেলা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে গঠিত মাফিয়া সিন্ডিকেট যা সব সময়ই মূল নিয়ন্ত্রক ছিলেন।

এসব মাফিয়া সিন্ডিকেটের গড ফাদাররা সব সময় পর্দার আড়ালে থাকতেন। ১৯৯১ সনে ক্ষমতাসীন বিএনপির সময়ে চক্রটি আড়ালে কাজ করলেও ১৯৯৬ সালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আমলে  চক্রটি প্রকাশ্যে আসে। সার কারখানার ,সিবিএ, নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শুরু হয় সার কারখানায় লুটপাটের রাম রাজত্ব। আওয়ামী লীগের টানা তিন মেয়াদে নানাভাবেই কারখানাটিতে হরিলুট চলেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সার পরিবহন, শ্রমিক হ্যান্ডেলিং, সার ব্যাগিং টেন্ডার ও বিভিন্ন মালামাল ক্রয়, অকেজো মালামাল বিক্রয়, বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ এবং বিভিন্ন সার ডিলারদের বরাদ্দকৃত সার উত্তোলনের সিরিয়াল নিয়ে চাঁদাবাজি, এ্যামোনিয়া গ্যাসের বোতল বাণিজ্য, অবৈধ পন্থায় ডিলারদের উত্তোলিত সার ক্রয়-বিক্রয় এমনকি এলাকার বরাদ্দকৃত সার বাইরে কালো বাজারে বিক্রি করাই ছিলো সিন্ডিকেটের কাজ। সেসবের  গড ফাদার নেতৃত্বে ছিলো ফারুক আহমেদ চৌধুরী।

যমুনা সার কারখানা শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন এবং ট্রাক পরিবহন মালিক সমিতির যৌথ পরিকল্পনায় ট্রাক পরিবহন শ্রমিক এবং স্থানীয় দলীয় নেতা-কর্মিদের ব্যবহার করে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এ্যাসোসিয়েশন জামালপুর জেলা শাখার ব্যনারে এ লুটপাট করা হয়েছে। যখন যেই দল ক্ষমতায় থাকে তখন সেই দলের নিয়ন্ত্রণে থাকে সার কারখানা। লুটপাটের অংশীদার ছিলেন তৎকালীন কর্মকর্তারাও। তারা কারসাজি করে কারখানা বন্ধ করে দিতেন। ফলশ্রুতিতে কৃত্রিম সার সংকট সৃষ্টি করে অধিক মুনাফা লাভে সিন্ডিকেটকে সহায়তা করতেন এবং বিনিময়ে কর্মকর্তারও লাভবান হতেন।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে, যমুনা সার কারখানায় প্রাকৃতিক গ্যাসের অপর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে উৎপাদন ঘাটতির কথা বলে হঠাৎ সার উৎপাদন বন্ধ করা হয় ফলে সারের দাম স্থানীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়। ২০১০ সালে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাপ কম এবং প্রযুক্তিগত নানা সমস্যার কারণ দেখিয়ে কারখানাটি ১১ বার উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। যে কারণে কারখানাটি এপ্রিল/২০১০ থেকে জুন ২০১১ পর্যন্ত বন্ধ ছিল। ২০১৬ সালের ২৩ জানুয়ারী নিরাপত্তারক্ষীরা কারখানা থেকে তিন টন সালফিউরিক অ্যাসিড পাচারের সময় একজন ট্রাক চালককে ধরে ফেলে। ২০১৭ সালে অনিশ্চিত গ্যাস সরবরাহের কারণে উৎপাদন সমস্যায় পড়েছিল। সিন্ডিকেট প্রধান ফারুক আহমেদ চৌধুরীর পরিকল্পনায এসব ঘটনা ঘটানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছেে। ২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর যমুনা সার কারখানায় আগুন লেগে উৎপাদন বন্ধ হয়। তখন সরকার দেশীয় চাহিদা মেটাতে ইউরিয়া সার আমদানি করে। সেই আমদানিকৃত সারের মূল্য ছিলো প্রায় ৫৭০ মিলিয়ন টাকা। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে এসব সার খোলা জায়গায় সংরক্ষণ করার কারণে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। এ সব ঘটনার সবগুলোই সেই লুটেরা সিন্ডিকেটের কারসাজি ছিলো বলে দাবি স্থানীয় জনগন ও সার ব্যবসা সংশ্লিষ্ট ডিলারদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সার ব্যবসায়ী ও স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা জানান- বিগত ১৫ বছরে লাগাতারভাবে এই সার কারখানাকে ঘিরে লুটপাট করছে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের লুটেরা সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের গড ফাদার ছিলেন- জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ চৌধুরী। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের মধ্যে এই সিন্ডিকেটের সাথে সক্রিয় ছিলেন- রফিকুল ইসলাম, ঈমান আলী, মুশতাক হোসেন ও হারুন অর রশীদ প্রমুখ। অনুসন্ধানে জানা যায়-সার পরিবহন, শ্রমিক হ্যান্ডলিং, সার ব্যাগিং টেন্ডার ও বিভিন্ন মালামাল ক্রয়, অকেজো মালামাল বিক্রয়, বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ, বিভিন্ন সার ডিলারদের বরাদ্দকৃত সার উত্তোলনের সিরিয়াল নিয়ে চাঁদাবাজি, এমোনিয়া গ্যাসের বোতল বানিজ্য, ডিলারদের উত্তোলিত সার অবৈধ পন্থায় ক্রয়-বিক্রয় ও বরাদ্দ এলাকার বাইরে কালো বাজারে বিক্রি করাই ছিলো এই সিন্ডিকেটের কাজ। তিনি আরো বলেন- আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও যমুনা সার কারখানায় সেই লুটপাট এখনও থেমে নেই। লুটেরা চক্রের গড ফাদার ফারুক চৌধূরীর লুটপাটের সেই সাজানো বাগানে তিনি শুধু নেই, কিন্তু পুরো বাগানটি এখনও সচল রয়েছে দাবি এলাকাবাসীর।

জামালপুরের একজন সার ব্যবসায়ী জানান- যমুনা সার কারখানাকে ঘিরে গড়ে উঠা ফারুক চৌধুরীর লুটেরা সিন্ডিকেট ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৫ বছর শুধু এমোনিয়া গ্যাস সিলিন্ডার ক্রয়-বিক্রয় করেই মুনাফা করেছিলো প্রায় ১২০ কোটি টাকা। এই ব্যবসাটি তখন ফারুক চৌধুরী একাই করেছেন। পরবর্তীতে এই নিয়ে দলীয় নেতারা বিক্ষুব্ধ হলে তিনি ২০১৮ সালের পর এটির সিংহভাগ নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে বাকি অংশ বিভিন্ন জনের মাঝে বন্টন করে দেন। সেই হিসাবে- ২০১৪ সন থেকে ২০২৪সন পর্যন্ত বিগত দশ বছরে ফারুক চৌধুরী যমুনা সার কারখানার এমোনিয়া গ্যাসের বোতল বিক্রি করেই মুনাফা করেছেন অন্তত  দুইশত কোটি টাকারও অধিক। তাছাড়া এই সার কারখানার বিভিন্ন টেন্ডার নিয়ন্ত্রন,  ডিলারদের সার ক্রয়ের স্লিপ জোর পূর্বক ক্রয় করে বরাদ্দকৃত সার জেলার বাইরে বিক্রি করে বিগত ১৫ বছরে হাতিয়ে নিয়েছে শত শত কোটি টাকা। তিনি আরও বলেন- ফারুক চৌধুরী ছিলো বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এ্যাসোসিয়েশনের দীর্ঘ সময়ের সাধারণ সম্পাদক।পুতুল সভাপতি ছিলো সরিষাবাড়ির সার ব্যবসায়ী আওয়ামী লীগ নেতা মুশতাক আহম্মেদ। এ পদে থেকে জামালপুর সার মনিটরিং কমিটির সদস্য হন তিনি। ঐ পদে থেকে তিনি সবচেয়ে বড় যে অনিয়মটি করেছেন- সেটি হলো সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বিসিআইসির আমদানীকৃত নন ইউরিয়া সারের ডিলার হিসাবে বিএডিসি’র অনুমোদিত সকল বীজ ডিলারগণ লাইসেন্স পাওয়ার কথা থাকলেও তিনি হতে দেননি ২০০৮ সন থেকে। তাঁর পছন্দ মত বিসিআইসির ডিলার ও কতিপয় বিএডিসি 'র অনুমোদিত বীজ ডিলারদের দেয়ার বিষয়ে সুপারিশ করেন। উল্লেখ্য নন ইউরিয়া সারের ডিলারশীপের জন্য জেলা বিএফএ’র সুপারিশ ছাড়া জেলা সার মনিটরিং কমিটি কোনো লাইসেন্সের ছাড়পত্র দিতেন না। তিনি আরও বলেন- নন ইউরিয়া সারের মাসিক বরাদ্দ এবং স্পেশাল বরাদ্দ নিয়ে তিনি সেই ২০০৮ সন কারসাজি করে আসছেন। স্পেশাল বরাদ্দের পুরোটাই তিনি চট্রগ্রাম বন্দরের বিক্রি করে দিতেন। আর মাসিক বরাদ্দের বিষয়টি তিনি পছন্দের ডিলারদের কিছু দিয়ে বাকি গুলো নিজেই আত্মসাত করতেন। এই নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিএডিসি’র বীজ ডিলারগন আন্দোলন করেও কোন প্রতিকার পাননি। বিগত ১৫ বছরে এই নন ইউরিয়া সারের বরাদ্দ বিক্রি করে তিনি শত কোটি টাকা লুটপাট করেছেন।

সার কারখানা লুটেরা সিন্ডিকেট প্রধান ফারুক চৌধুরীর নানা অপকর্ম জেলার সব শ্রেণির মানুষ জানলেও কেউ কোনোদিন টুশব্দ করতে পারেননি। তার উপর এক কেন্দ্রীয় নেতা ঠাকুরের আর্শিবাদ থাকায় সব সেক্টরেই লুটপাট করেছেন তিনি।

গত ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর লুটেরা সিন্ডিকেট প্রধান ফারুক চৌধুরী গা-ঢাকা দিলেও তার সবকিছু চলছে আগের মতই। ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা তার মোবাইল ফোনেই এখনও সব নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। 

তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন জামালপুর বাসীর।

পুলিশে নিয়োগ দিতে ১০ লাখ টাকার চুক্তি প্রতারক আটক ১ ।

                       শুধু দেশ  জনগণের পক্ষে

পুলিশে নিয়োগ দিতে ১০ লাখ টাকার চুক্তি প্রতারক আটক ১ ।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

জামালপুরে পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগ পরীক্ষার সময় আবুল হায়াত (৩৮) নামের এক প্রতারককে আটক করা হয়েছে। 

বুধবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে জেলা পুলিশ লাইনসের ১ নম্বর গেট থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক আবুল হায়াত পার্শ্ববর্তী শেরপুরের শ্রীবর্দী উপজেলার চিতলিয়া পাড়া (সওদাগর বাড়ি) এলাকার মৃত মলুম উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ জানায়, জামালপুরে ২৯ অক্টোবর থেকে তিন দিনব্যাপী পুলিশ নিয়োগ পরীক্ষা চলছে। জামালপুর পৌরসভার তেঁতুলিয়া পাড়ার সালাহ উদ্দিনের ছেলে কামরুল হাসান শাহেদকে (১৯) ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে পুলিশে নিয়োগ করিয়ে চুক্তি করেন আবুল হায়াত। চুক্তি অনুযায়ী প্রথমে ৫০ হাজার টাকা ও বাকি টাকা চাকরি হওয়ার পরে দেওয়ার কথা।

বুধবার দুপুরে জেলা পুলিশ লাইনসের ১ নম্বর গেটের সামনে আবুল হায়াত গোপনে সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে আলোচনা করেন। খবর পেয়ে তাকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-১)। এ ঘটনায় সালাহ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব  জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক আবুল হায়াত পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরি দেওয়ার  কথা বলে একাধিক প্রার্থীর সঙ্গে টাকা লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তার মোবাইল থেকে চাকরিপ্রার্থীদের প্রবেশপত্র ও বিভিন্ন কাগজপত্র পাওয়া গেছে।

বিলাসবহুল 'গাড়ী বাড়ির মালিক ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ

                                    শুধু দেশ  জনগণের পক্ষে

বিলাসবহুল 'গাড়ী বাড়ির মালিক ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

একজন ইউপি চেয়ারম্যানের মাসিক সম্মানিত ভাতা ১০ হাজার টাকা। যা একজনের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর বেতনের চাইতেও কম। এই ভাতায় দ্রব্যমূলের উর্ধ্বগতির যুগে চেয়ারম্যানরা এতো বিলাসি জীবন যাপন করে কি করে? কি করেই বা বাড়ি গাড়ী ও সম্পদের মালিক হন? এমন প্রশ্ন ইউনিয়ন বাসীর।

সাম্প্রতিক কালে লক্ষ্য করা যায় যে, জনসেবা করতে আসা স্থানীয় সরকার পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা মেয়াদান্তেই ( বিশেষ করে ইউপি চেয়ারম্যান) বাড়ি গাড়ী ও ব্যবসা বাণিজ্যের মালিক হয়ে যায়। অথচ তারা অনেকেই আসেন শূন্য হাতে।

জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ৩নং মাহমুদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ব্যাপারে তেমন অভিযোগ উঠেছে।

ইউনিয়নবাসীর পক্ষে, চারাইলদার গ্রামের সুরুজ প্রামাণিকের ছেলে, মোঃ মনির হোসেন জুইস বলেন, জিন্নাহ যখন প্রথম চেয়ারম্যান হন তখন তার কিছুই ছিল না। বউয়ের পরিবার কল্পনা দপ্তরের ভিজিটরের চাকুরী আর পৈত্রিকসূত্রে পাওয়া ৪/৫ কাঠা জমি ছিল তার সম্পদ। সেই জিন্নাহ একাধারে ৩ বার চেয়ারম্যান হওয়ার পর আজ তিনি অসামঞ্জস্য সম্পদের মালিক। বৃদ্ধি পেয়েছে আবাদি জমি, কিনেছেন মাহমুদ বাজারের মতো জায়গায় জমি, ঢাকা ময়মনসিংহে ফ্ল্যাট বাড়ি, নান্দিনায় ফিলিং স্টেশন, চড়েন ৩০ লক্ষাধিক টাকার অধিক মূল্যের গাড়ীতে। যাপন করেন বিলাসবহুল জীবন।

ব্যয় বহুল জীবন যাপনের যুগে একজন সৎ চেয়ারম্যানের পক্ষে শুধু সম্মানি দিয়ে এমন দৃশ্যমান সম্পদের মালিক হওয়া কি সম্ভব?

মাহমুদপুর ইউপির সাবেক পরিষদসূত্রে জানা যায় , ২০২০ সালের ১২ অগাস্ট দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে মাহমুদপুর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতি অনাস্থা দিয়েছিলেন ওই ইউনিয়নের ৯জন সদস্য। অনাস্থা প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মাহমুদপুর বাজারের পুরনো ইউপি ভবনের জায়গায় নির্মিত দোকানপাটের জামানত, ভাড়া, ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের হাট-বাজারের আদায়কৃত ট্যাক্স, এলজিএসপি প্রকল্পের টাকা, ইউপি সদস্যদের সম্মানী ভাতা, শ্রমিকদের ১০০ দিনের কর্মসূচির টাকা ও টিআর কাবিখার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। পরে চেয়ারম্যান তার পদ ও মান বাঁচাতে মেম্বারদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কিনে অনাস্থার প্রত্যাহার করান।

এব্যাপারে অনাস্থাকারীদের একজন, সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ আঃ হামেদ বলেন, টাকার বিনিময়ে নয়, আওয়ামী লীগের সাংগঠিক সম্পাদক ও মেলান্দহ মাদারগঞ্জের এমপি মির্জা আজমের চাপে এবং ভয়ে আমরা চেয়ারম্যানের সাথে আপোষ করতে বাধ্য হয়েছিলাম।

জিন্নাহর এক সময়ের রাজনৈতিক সহচর জনৈক যুব লীগ নেতা জানান, জিন্নাহ একজন বিচক্ষণ ও চৌকস রাজনীতিক। তার রয়েছে অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা। কিন্তু, তিনি যখন তার ভাই টুলু মেম্বার ও ভূমিখেকো ডানোর মাধ্যমে জমি সিন্ডিকেট গঠন ও কালো টাকা উপার্যনের পথে হাঁটতে শুরু করেন তখন থেকে আমি তার সঙ্গ ছেড়ে দিয়েছি।

এব্যাপারে মাহমুদপুর, ইউপি চেয়ারম্যান  মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ তাকে ঘিরে জনমনে সৃষ্ট প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বলেন, প্রশ্নকারি নিজেই একজন মন্দ লোক। তার অনেক অপকর্মের কথা জানেন মাহমুদপুরবাসী। তদুপরি, আমি কোনো অপব্যায়কারি নই। আমার মদ, জুয়া, নারী বা অন্যকোনো নেশা নেই। আমার বাবার সম্পত্তি, আমার দোকান ভাড়া ও স্ত্রীর বেতন ভাতা থেকে যা আয় করেছি তা দিয়েই আমি স্বচ্ছল জীবন যাপন করেছি। আমার গাড়ী ও ফিলিং স্টেশন ঋণের টাকায় করা। আমি যদি অন্য নেতাদের মতো অবৈধ উপায়ে কালো টাকা উপার্যন করতাম তাহলে আমিও তাদের মতো পালিয়ে যেতাম। অতএব, আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত প্রশ্ন প্রতিহিংসার প্রতিফলন মাত্র।

Monday, 28 October 2024

আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় কৃষক দল নেতা গুরুতর আহত।

                   শুধু দেশ  জনগণের পক্ষে 

আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায়  কৃষক দল নেতা গুরুতর আহত।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

২৮ অক্টোবর সোমবার সকাল আনুমানিক ৯ টায় উপজেলার মালঞ্চ নতুন বাজারে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় উপজেলা কৃষক দলের সিনিয়র সহ- সভাপতি আব্দুল মান্নান গুরুতর আহত হয়েছে।

আব্দুল মান্নান জানায় ৫ আগষ্টে সরকার পতনের পূর্বে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সকল নাশকতা ও বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর হামলার বিরুদ্ধে ২ সেপ্টেম্বর মেলান্দহ থানায় একটি মামলা হয়।উক্ত মামলার বাদী আব্দুল মান্নান। মামলার আসামীরা গত ২৭ অক্টোবর আদালত থেকে জামিনে এসে আব্দুল মান্নান কে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং সন্ধ্যার পর বাজারে এসে দলবদ্ধ হয়ে মালঞ্চ বাজারে খোজাখুজি করে না পেয়ে চলে যায়,পরদিন সকালে বিএনপির লিফলেট বিতরণ করতে আব্দুল মান্নান বাজারে আসলে সন্ত্রাসী মজিবর সুমন জাহাঙ্গীর ও ইন্তেজ আলী সহ ২০/ ২৫ জনের একটি দল হামলা করে আব্দুল মান্নান কে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায়। সংবাদ পেয়ে বিএনপির লোকজন এসে মান্নান কে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। 

এ ব্যাপারে মেলান্দহ থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে থানা অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা জানিয়েছেন।

জামালপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

                                                শুধু দেশ  জনগণের পক্ষে 

জামালপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

জামালপুরে অভিযানে ৪০০ পিস ইয়াবা ও নগদ ১৪,৫০০/-(চৌদ্দ হাজার পাঁচশত ) টাকা সহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।  সোমবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ১২ টায়  জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের হোটেল আলিবাবা এন্ড মিষ্টান্ন ভান্ডার এর ভিতরের ১নং কেবিনের মধ্যে তাদের গ্রেফতার করা হয়।  তারা হলেন কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার ফুলুয়ারচর গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে সাজেদুল ইসলাম (৩১) ও একই গ্রামের মরহুম শের আলীর ছেলে মো: রতন (৩০)।

এ বিষয়ে ডিবি (ওসি) সাকিব আহমেদ জানান,
জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার জনাব সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, পিপিএম-সেবা মহোদয়ের নির্দেশনায় বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে সাজেদুল ও রতনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মাদক ব্যবসার  কথা স্বীকার করে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বকশিগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের ও সহযোগীতের আটক করার চেষ্টা অব্যাহত আছে।